কিভাবে ফেসবুক পেজ তৈরি করবেন এর কাস্টমাইজড করবেন?

কিভাবে ফেসবুক পেজ তৈরি করবেন?

এখানে আমি ফেসবুক পেজ তৈরির পদ্ধতি শেয়ার করব না। কারণ এ বিষয়টি আপনারা সবাই মোটামুটি ভালোভাবে জানেন। সাধারণত অধিকাংশ কোম্পানি ফেসবুক ব্রান্ড পেজ তৈরি করার সময় যে সমস্ত ভূল করে থাকেন, সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। নিচের টিপসগুলো আপনার সেই ভুল এড়িয়ে চলতে হেল্প করবে।

প্রোফাইল পিকচার ও কভার ছবি

ফেসবুক ব্রান্ড পেজ তৈরি করার পর অবশ্যই আপনার কোম্পানির একটি ভালোমানের লোগো এবং কভার ছবি যুক্ত করে নিবেন। কারণ আপনার কোম্পানির লোগো এবং কভার ছবি ফেসবুকে ব্রান্ড তৈরি করতে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে।

About Us সেকশন

এই সেকশনটা প্রত্যেকটি ব্রান্ড ফেসবুক পেজের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনার কোম্পানি কি ধরনের কাজ করে বা কি ধরনের প্রোডাক্ট সেল করে, সেটা About Us সেকশন সংক্ষেপে লিখে রাখবেন। তাহলে যেকোন লোক আপনার ফেসবুক পেজ ভিজিট করার পর সহজে আপনার কোম্পানি সম্পর্কে ধারনা নিতে পারবে।

বাটন ও কাস্টমাইজ ট্যাব

প্রতিটি ফেসবুক পেজেই কল-টু-অ্যাকশন বাটন ও কাস্টমাইজ করার ট্যাব থাকে। এই ধরনের বাটনের মাধ্যমে ফেসবুক পেজের ভিজিটর আপনার সাথে যোগাযোগ করার সুযোগ পায়। সাধারণত একটি ফেসবুক পেজে নিচের বাটনগুলো যুক্ত করার অপশন থাকে।

  • কনটাক্ট আস
  • শপ নাউ
  • সেন্ড ম্যাসেজ
  • বুক নাউ
  • সাইন আপ
  • ওয়াচ ভিডিও
  • প্লে গেমস

আপনার চাহিদানুসারে উপরের যেকোন বাটন যুক্ত করে নিতে পারেন। এই বাটন যুক্ত করার ফলে আপনার ফেসবুক পেজের ভিজিটর আপনার সাথে দ্রুত যোগাযোগ করতে পারবে।

সঠিক পেজ URL গঠন

ফেসবুক পেজের ইউআরএল তৈরীর ক্ষেত্রে অবশ্যই যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত, সহজবোধ্য এবং বিষয় সম্পৃক্ত URL নির্বাচন করতে হয়। আপনার যদি কোন ওয়েবসাইট থেকে থাকে, তাহলে সেটির সাথে মিল রেখে URL তৈরি করে নিবেন। ওয়েবসাইট না থাকলে অবশ্যই কোম্পানির নামে সাথে মিল রেখে ফেসবুক পেজ URL তৈরি করবেন।

টাইমলাইনে বিভিন্ন তথ্য সংযোজন করা

আপনার কোম্পানির ফেসবুক পেজে নিয়মিত আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের আপডেট দিতে থাকবেন। ফেসবুক পেজের টাইমলাইন যত আপডেট রাখবেন, আপনার পেজের এনগেজমেন্ট তত বৃদ্ধি পাবে।

নিচের বিষয়গুলো ফেসবুক পেজের টাইমলাইনে শেয়ার করতে পারেন-

  • নিত্য নতুন প্রোডাক্ট এর ঘোষনা ও বিবরণ।
  • ব্লগের বিভিন্ন পোস্ট।
  • বিভিন্ন অফার এর কোপন কোড।
  • প্রোডাক্ট এর ছবি।
  • বিভিন্ন প্রোডাক্ট এর রিভিউ ভিডিও।

তাছাড়া আপনার ফেসবুক পেজের Statistics হতে দেখে নিবেন, কাস্টোমাররা কোন ধরনের প্রোডাক্ট বেশি পছন্দ করছে। যে ধরনের প্রোডাক্টগুলো বেশি বিক্রি হবে সেই ধরনের প্রোডাক্ট সম্পর্কে ফেসবুকে পেজের টাইমলাইনে আপডেট শেয়ার করলে আপনি সহজে ফ্রি ফেসবুক মার্কেটিং করে সফল হতে পারবেন।

ফেসবুক গ্রুপ মার্কেটিং করা

আপনার কোম্পানির নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করেও আপনি ফেসবুক মার্কেটিং করতে পারেন। তাছাড়া আপনি চাইলে আপনার প্রোডাক্ট রিলেটেড বিভিন্ন ফেসবুকে গ্রুপে জয়েন করে আপনার প্রোডাক্ট ফ্রিতে প্রোমোশন করতে পারেন। যে সকল ফেসবুক গ্রুপে প্রচুর পরিমানে মেম্বার আছে, সেই সকল ফেসবুক গ্রুপে আপনার প্রোডাক্ট শেয়ার করে সহজে আপনার কোম্পানির পরিচিতি বৃদ্ধি করে নেওয়ার পাশাপাশি প্রোডাক্ট সেল করেও নিতে পারবেন।

কিভাবে ফেসবুক পেইড মার্কেটিং করবেন?

আমি আগেই বলেছি, টাকার বিনিময়ে ফেসবুকে কোন প্রোডাক্ট বা ফেসবুক পেজের বিজ্ঞাপন দেওয়াকে ফেসবুক পেইড মার্কেটিং বলে। ফেসবুক পেইড মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে তেমন কোন পরিশ্রম বা টেকনিক অবলম্বন করার প্রয়োজন হয় না। শুধুমাত্র আপনার প্রোডাক্ট অনুসারে কাস্টোমারদের টার্গেট করে ফেসবুক এড ক্যাম্পেন তৈরি করতে পারলেই, ফেসবুক পেইড মার্কেটিং এর কাজ হয়ে যায়।

সাধারণত ৫ ডলার থেকে শুরু করে লাখ লাখ ডলার খরছ করে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে আপনি যত বেশি ডলার ইনভেস্ট করবেন, আপনার প্রোডাক্ট তত বেশি মানুষের কাছে পৌছবে। কত টাকা বিজ্ঞাপন দেবেন, সেটা আপনার বাজেট ও চাহিদার উপর ডিপেন্ড করবে।

উপরের চিত্রটি দেখুন, এটি ফেসবুক হতে নেওয়া হয়েছে। এটি দেখতে অনেকটা সাধারণ ফেসবুক পোস্ট এর মত লাগছে। কিন্তু একটু ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন, পোস্টের সাথে ছোট করে “Sponsored” লেখা আছে। ফেসবুকে বুস্ট করা পোস্টগুলোতে এভাবে ছোট করে “Sponsored” লেখা থাকে।

কিভাবে ফেসবুকে একটি এড ক্যাম্পেন তৈরি করতে হয়, সে বিষয়ে আজকের পোস্টে আলোচনা করতে পারছি। ফেসবুক এড ক্যাম্পেন তৈরি করার বিষয়ে ভবিষ্যতে আমরা একটি বিস্তারিত পোস্ট শেয়ার করার চেষ্টা করব।

তবে ফেসবুকে এড ক্যাম্পেন তৈরি করা খুব কঠিন কিছু নয়। আপনি নিজে নিজে ট্রাই করলে খুব সহজে একটি ফেসবুক এড ক্যাম্পেন তৈরি করতে পারবেন।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *